প্রত্নবস্তু ১৪: হনুমান
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম৯৩০১
মাপ: ১৩১.০ X ৬১.০ সেমি
উপাদান: ধূসর বেলেপাথর
সংগ্রহের স্থান: রাজশাহী, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতক
রামায়ণ দক্ষিণ এশিয়া থেকে উদ্ভূত অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম। এটি রাজা দশরথের সিংহাসনের বৈধ উত্তরাধিকারী রাজকুমার রামের নির্বাসনের মহাকাব্য বর্ণনা করে। বনে নির্বাসনের সময় রাম ও তাঁর স্ত্রী সীতার সঙ্গে যোগ দেন রামের অনুগত ভাই লক্ষ্মণ। তাঁরা অনেক রাক্ষসের মুখোমুখি হন, যার মধ্যে লঙ্কার দশমাথাওয়ালা রাজা রাবণের বোন শূর্পণখাও ছিলেন। রাবণ শেষ পর্যন্ত রামকে প্রতারিত করে সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যান। যখন রাম ও লক্ষ্মণ সীতাকে উদ্ধার করতে বের হন, তখন তাঁদের সাথে বানর যোদ্ধা হনুমানের দেখা হয়। হনুমান তাঁর শক্তি ব্যবহার করে উড়ে লঙ্কায় যান এবং সীতাকে কোথায় বন্দী করে রাখা হয়েছে তা আবিষ্কার করেন। এরপর এক মহান যুদ্ধ সংঘটিত হয়, রাবণ নিহত হন এবং সীতা ও রাম পুনরায় মিলিত হন।
ভারতের কেরালায় রামায়ণের কথাকলি পরিবেশনার সময় রামের হাতে কিষ্কিন্ধ্যার শাসক, শক্তিশালী বানর রাজা বালীর মৃত্যু দৃশ্য (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
ভারতের কেরালায় রামায়ণের কথাকলি পরিবেশনার সময় রামের হাতে কিষ্কিন্ধ্যার শাসক, শক্তিশালী বানর রাজা বালীর মৃত্যু দৃশ্য (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
এই ভাস্কর্যটি হনুমানের যোদ্ধা সুলভ দক্ষতা ও শক্তিকে তুলে ধরে, যেখানে তাঁকে তাঁর পায়ের নিচে একজন শত্রু রাক্ষসকে পিষ্ট করতে দেখা যায়। একটি বানরের মুখ দিয়ে চিত্রিত, হনুমানের গদা তাঁর শারীরিক শক্তি এবং রক্ষাকর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকার প্রতীক। তাঁর অন্য হাতের গোলকটিকে দ্রোণগিরি পর্বত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রামায়ণে, লক্ষ্মণের গুরুতর জখম নিরাময়ের জন্য হনুমানকে ভেষজ খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ভেষজটি শনাক্ত করতে না পেরে, হনুমান তাঁর অপরিসীম শক্তি ব্যবহার করে পুরো হিমালয় পর্বত তুলে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে আসেন।
হনুমানের ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০১)
হনুমানের ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০১)
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে অনেক স্থানকে রামায়ণের অন্তর্গত স্থান ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অনেকে বিশ্বাস করেন যে, রাবণের লঙ্কা হলো শ্রীলঙ্কা দ্বীপ, আবার কিছু স্থানীয় সম্প্রদায় মনে করে যে, দিনাজপুর জেলার সীতাকোটের ধ্বংসাবশেষ সীতার বনবাসের বাসস্থানের অবশিষ্টাংশকে চিহ্নিত করে।
সীতাকোট বিহার প্রত্নস্থল, দিনাজপুর জেলা, বাংলাদেশ। স্থানীয় জনপ্রবাদ পালযুগের বৌদ্ধ বিহারের এই ধ্বংসাবশেষটি বনের মধ্যে সীতার অন্যতম বাসস্থানের অবশিষ্টাংশ হিসাবে চিহ্নিত করে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
সীতাকোট বিহার প্রত্নস্থল, দিনাজপুর জেলা, বাংলাদেশ। স্থানীয় জনপ্রবাদ পালযুগের বৌদ্ধ বিহারের এই ধ্বংসাবশেষটি বনের মধ্যে সীতার অন্যতম বাসস্থানের অবশিষ্টাংশ হিসাবে চিহ্নিত করে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
