প্রত্নবস্তু ১৮:

আরবি শিলালিপি

 কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপি (ভিআরএম২৯১৩)

 কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপি (ভিআরএম২৯১৩)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২৯১৩

মাপ: ১৩৩.০ X ৪০.০ সেমি

উপাদান: আগ্নেয়শিলা

সংগ্রহের স্থান: উলিপুর, কুড়িগ্রাম জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: ১৫০৬ সা. অব্দ

এই নিদর্শনটি স্বাধীন বাংলা সালতানাতের (১৩৫৩-১৫৭৬ সা. অব্দ) শাসক আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (শাসনকাল ১৪৯৪-১৫১৯ সা. অব্দ) একটি স্মারক শিলালিপি। সুলতানের শাসনকালকে একটি সাংস্কৃতিক স্বর্ণযুগ হিসেবে দেখা হয়, সেসময় বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ঘটে এবং বহু স্থাপনা নির্মিত হয়। এই শিলালিপিটি একটি জামে মসজিদ নির্মাণের তথ্য লিপিবদ্ধ করে, যদিও নির্দিষ্ট স্থাপনাটি এবং এর অবস্থান অজানা।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপি (ভিআরএম২৯১৩)

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপি (ভিআরএম২৯১৩)

আরবি লিপির এই সুরুচিপূর্ণ শৈলী দুটি খোদাই করা পদ্মফুল দিয়ে অলঙ্কৃত। ইসলামি প্রতীকবিদ্যায়, পদ্ম পবিত্রতা ও বেহেশতের সাথে সম্পর্কিত। এই নকশাগুলোর অবস্থান নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বাণী ও শিক্ষা সম্বলিত হাদিসটিকে ফুটিয়ে তুলেছে, যা মসজিদ নির্মাণকে নির্দেশ করে:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেশতে অনুরূপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।”

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপিতে পদ্মফুলের বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম২৯১৩)

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থেকে প্রাপ্ত সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আরবি শিলালিপিতে পদ্মফুলের বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম২৯১৩)

পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে যে, একটি মসজিদ মুসলিম সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে এবং বিশ্বাসীদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করা একটি তাৎপর্যপূর্ণ জনহিতকর কাজ। পদ্মফুলগুলোর অবস্থান শিলালিপির এই অংশের প্রতি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং এটি নির্মাণের জন্য দাতার বদান্যতা, সেইসাথে পরকালে এই পুণ্যকর্মের পুরস্কারের উপর গুরুত্বারোপ করে।