প্রত্নবস্তু ২৫:

বর বসনী কাঁথা 

বর বসনী কাঁথা (ভিআরএম১১৩৯০)

বর বসনী কাঁথা (ভিআরএম১১৩৯০)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম১১৩৯০

মাপ: ৬৭.০ X ৫৭.০ সেমি

উপাদান: সুতি

সংগ্রহের স্থান: রুস্তমপুর, বগুড়া জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: ১৯৩৭-১৯৩৯ সা. অব্দ

বাংলা অববাহিকার অন্যতম স্বকীয় ঐতিহ্য হলো কাঁথা শিল্প, যা মূলত পুরোনো এবং ব্যবহৃত কাপড়ের উপর সুনিপুণ সূচিকর্মের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। কাঁথায় ফুটে ওঠা চিত্রাবলী বাংলার সাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের সাথে এক চাক্ষুষ মেলবন্ধন স্থাপন করে। এই বিশেষ কাঁথাটি ফুল-লতা এবং হাতি ও মাছের মতো বিভিন্ন প্রাণীর নকশায় অলঙ্কৃত। পুরো কাঁথা জুড়ে বিভিন্ন আকৃতিতে এই নকশাগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা কাঁথার জমিন বা পরিসর ব্যবহারে নকশাগুলোর নমনীয়তাকেই নির্দেশ করে।

বর বসনী কাঁথা (ভিআরএম১১৩৯০)

বর বসনী কাঁথা (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথা সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, বিশেষ উপলক্ষ কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হতো। আলোচ্য নিদর্শনটি বিবাহ অনুষ্ঠানে বরের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে, কাঁথার নকশা বা মোটিফগুলো ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। যেমন, হাতি বিবাহ শোভাযাত্রার সাথে সম্পৃক্ত, যার পিঠে চড়ে বর আসতেন। রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে হাতি একইসাথে শক্তি, সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্যেরও পরিচায়ক। কাঁথায় দৃশ্যমান হৃৎপিণ্ডাকৃতির পানপাতা এবং মাছের নকশা বিবাহের প্রতীকী রূপ, কারণ বিবাহ উপহার বা তত্ত্ব হিসেবে বর ও তার পরিবারের কাছে এগুলো পাঠানোর প্রথা রয়েছে।

কাঁথায় অঙ্কিত হাতির নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথায় অঙ্কিত হাতির নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথায় অঙ্কিত মাছের নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথায় অঙ্কিত মাছের নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথায় অঙ্কিত পানপাতার নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

কাঁথায় অঙ্কিত পানপাতার নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩৯০)

মূলত মিতব্যয়িতা বা সাংসারিক সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এর উদ্ভব হলেও, বর্তমানে কাঁথা বাংলাদেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতীক এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে কাঁথা অভিজাত পণ্য এবং চাহিদাপূর্ণ স্মারক হিসেবেও সমাদৃত ও বাজারজাত হচ্ছে।