প্রত্নবস্তু : কুমার শরৎকুমার রায়ের টেবিল

কুমার শরৎকুমার রায়ের টেবিল (ভিআরএম১৫৬৮৬)

কুমার শরৎকুমার রায়ের টেবিল (ভিআরএম১৫৬৮৬)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম১৫৬৮৬

মাপ: ৯৪ x ৫০ x ১১১ সেমি

উপাদান: কাঠ, মার্বেল, চকচকে সিরামিক ফলক

সংগ্রহের স্থান: রাজশাহী, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: ঊনবিংশ শতক

এই টেবিলটির মালিক বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের তিন প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম কুমার শরৎকুমার রায় (১৮৭৬-১৯৪৬)। তিনি দিঘাপতিয়া রাজবংশের সদস্য ছিলেন, যাঁদের জমিদারি এস্টেট নাটোরের অধিকাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রচারে সচেষ্ট এই অগ্রপথিকেরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন যা বরেন্দ্র অঞ্চলের (ঐতিহাসিকভাবে উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ অংশকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি এলাকা) প্রাচীন অতীতকে অনুসন্ধান, রক্ষা এবং প্রদর্শন করতে পারে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে প্রদর্শিত জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতিকৃতি। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০) (বামে), কুমার শরৎকুমার রায় (১৮৭৬-১৯৪৬) (মাঝে) এবং রমাপ্রসাদ চন্দ (১৮৭৩-১৯৪২) (ডানে)

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে প্রদর্শিত জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতিকৃতি। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০) (বামে), কুমার শরৎকুমার রায় (১৮৭৬-১৯৪৬) (মাঝে) এবং রমাপ্রসাদ চন্দ (১৮৭৩-১৯৪২) (ডানে)

তিনজন ব্যক্তি ১৯১০ সালে  বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাহাড়পুরসহ বিভিন্ন প্রত্নক্ষেত্রের জরিপ ও খননকার্যে সহায়তা প্রদান করেন। ১৯১২ সালে রাজশাহী গণগ্রন্থাগারে প্রত্নবস্তুর একটি প্রদর্শনীর পর এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সমিতির এমন একটি স্থান প্রয়োজন যেখানে তাদের প্রত্নসংগ্রহগুলো স্থায়ীভাবে জনসম্মুখে প্রদর্শন করা যেতে পারে। ১৯১৯ সালের ২৭শে নভেম্বর ইন্দো-সারাসেনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি নতুন ভবনে জাদুঘরটি চালু হয়। পশ্চিমা নব্য-ধ্রুপদী এবং গথিক শৈলীর সাথে দক্ষিণ এশীয় রাজপুত, মুঘল এবং ইসলামি নকশার সমন্বয় ঘটিয়ে—এ ধরনের স্থাপত্যশৈলীতে অনেক জমিদারবাড়ী ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল।

জাদুঘরের পরিচালক হিসেবে শরৎকুমার রায় যে টেবিলটি ব্যবহার করতেন, সেটিতেও একইভাবে দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণ দেখা যায়। এতে স্থানীয় কাঠের সাথে আমদানি করা মার্বেলের সমন্বয় করা হয়েছে এবং এতে মাছের নকশা খচিত নীল চকচকে সিরামিক ফলকের উপস্থিতি লক্ষণীয়। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর এখনও শরৎকুমার রায়ের প্রভাব বহন করে, কারণ জাদুঘরের পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বারে তাঁর স্থাপন করা ভিত্তিপ্রস্তরে তার নাম প্রোথিত রয়েছে। কুমার শরৎকুমার রায়ের টেবিলটি তার এবং অপরাপর সহযোগী প্রতিষ্ঠাতাদের সাথে বর্তমানের একটি প্রত্যক্ষ সংযোগও বটে। এটি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস অনুসন্ধানে সক্ষম একটি সংগ্রহ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতির সাথে একটি সংযোগের মাধ্যম ছিল এটি। তাঁদের দূরদর্শিতা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে গবেষণা ও শিক্ষার কেন্দ্র এবং জনসাধারণের জন্য একটি সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। জাদুঘরের প্রত্নসংগ্রহের বস্তুগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের গল্প বিনির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে কুমার শরৎকুমার রায় কর্তৃক স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে কুমার শরৎকুমার রায় কর্তৃক স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর