প্রত্নবস্তু : জীবাশ্মীভূত কাঠ

জীবাশ্মীভূত কাঠের খণ্ড (ভিআরএম১০৬২৭)

জীবাশ্মীভূত কাঠের খণ্ড (ভিআরএম১০৬২৭)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম১০৬২৭

মাপ: ৬৭ x ৪২ সেমি

উপাদান: জীবাশ্মীভূত কাঠ

সংগ্রহের স্থান: পাহাড়তলী, রাউজান উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: এক লক্ষ বছরেরও অনেক আগের

কাঠের এই বৃহৎ খণ্ডটি ১,০০,০০০ বছরেরও অনেক আগে ভেজা পলিমাটিতে, সম্ভবত কোনো নদীতে, চাপা পড়েছিল। এই জলমগ্ন পরিবেশে অক্সিজেন না থাকায় কাঠটি পচন থেকে রক্ষা পেয়েছিল এবং সময়ের সাথে সাথে এর জৈব কাঠামো ধীরে ধীরে খনিজ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াটিকে অশ্মীভবন বলা হয়, যার মাধ্যমে এটি সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে পাথরে রূপান্তরিত হয়। জীবাশ্মীভূত এই প্রজাতিটি নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ক্রান্তীয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতপূর্ণ ছিল।

জীবাশ্মীভূত কাঠের খণ্ড (ভিআরএম১০৬২৭)

জীবাশ্মীভূত কাঠের খণ্ড (ভিআরএম১০৬২৭)

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের বনাঞ্চল। সৌজন্যে: অধ্যাপক শাহনাজ জাহান

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের বনাঞ্চল। সৌজন্যে: অধ্যাপক শাহনাজ জাহান

পশ্চিমবঙ্গের কানা-তে উচ্চ পুরাপ্রস্তরীয় যুগের সরঞ্জামের আবিষ্কারের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রায় ৪২,০০০ বছর আগে প্রথম আধুনিক মানুষ বাংলা অববাহিকার ঘনবর্ষণ গহীন বনাঞ্চলের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে, বাংলাদেশে প্রারম্ভিক মানব বসতির প্রমাণ খুবই দুর্লভ, কারণ নিয়মিত পলি জমা, বন্যা এবং প্রধান নদীগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি পরবর্তীকালের বসতি স্থাপন ও কৃষির উন্নয়ন প্রাগৈতিহাসিক সম্প্রদায়গুলোর ঐতিহাসিক চিহ্ন মুছে ফেলেছে বা মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে।

জীবাশ্ম কাঠ দিয়ে তৈরি প্রাগৈতিহাসিক সরঞ্জাম। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরিপের সময় এটি পাওয়া যায়। সৌজন্যে: ড. মো. আতাউর রহমান, উপপরিচালক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

জীবাশ্ম কাঠ দিয়ে তৈরি প্রাগৈতিহাসিক সরঞ্জাম। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরিপের সময় এটি পাওয়া যায়। সৌজন্যে: ড. মো. আতাউর রহমান, উপপরিচালক, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

শিকার করা এবং আবাস নির্মাণের পাশাপাশি, প্রাগৈতিহাসিক সম্প্রদায়গুলো গাছ কাটার জন্যও জীবাশ্মীভূত কাঠের সরঞ্জাম ব্যবহার করতো। প্রাগৈতিহাসিক কুঠার, ছুরি, চাঁছনি এবং ‘সেল্ট’ নামে পরিচিত বাটালসদৃশ এক ধরনের কাটার সরঞ্জামের খোঁজ মেলে বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, সিলেট এবং চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকাগুলোতে। প্রস্তর সরঞ্জাম হিসাবে প্রচলিত এসব হাতিয়ারের বেশিরভাগই জীবাশ্মীভূত কাঠের খণ্ডকে আকার দিয়ে তৈরি করা হতো। সময়ের সাথে সাথে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, প্রসার ঘটে জনবসতির। ফলে বাংলা অববাহিকা জুড়ে বনাঞ্চলগুলো উজাড় হওয়া শুরু করে এবং ধারাবাহিকভাবে এই এলাকাগুলোতে নীবিড় কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন এবং নগর কেন্দ্রভিত্তিক জাগরণের সূচনা করে।