প্রত্নবস্তু ১০:
তালপাতার পুঁথি
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম৬৮৯
মাপ: ৫৫.৯ X ৫.৪ সেমি
উপাদান: তালপাতা
সংগ্রহের স্থান: অজানা
সময়কাল: অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক
তালপাতার এই পুঁথিটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সংরক্ষিত প্রাচীন পুঁথিগুলোর মধ্যে একটি। এটি পাল যুগের বলে মনে করা হয়। এর উপাদান তালিপট তাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রতিটি পাতায় দুটি ছিদ্র করা হয়েছে যাতে সেগুলোকে একত্রে বেঁধে একটি পূর্ণাঙ্গ বই তৈরি করা যায়। প্রস্তরলিপির তুলনায় তালপাতার পুঁথি ভঙ্গুর এবং পোকামাকড়, আগুন ও বন্যার ফলে ক্ষতি ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকে। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে যত্নসহকারে সংরক্ষিত এই নিদর্শনটি আমাদের অতীতের সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক এবং ধর্মীয়চর্চা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
এই তালপাতার পুঁথিটি অষ্টসহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতার একটি অনুলিপি, যার অনূদিত অর্থ ‘আট হাজার শ্লোকে অতীন্দ্রিয় প্রজ্ঞার পরিপূর্ণতা’। এটি মহাযান বৌদ্ধধর্মের একটি প্রধান গ্রন্থ। এতে বুদ্ধ এবং তাঁর অন্যতম শিষ্য সুভূতির মধ্যে অস্তিত্বের প্রকৃতি সম্পর্কিত একটি আলোচনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে। এটি সংস্কৃত ভাষায় লেখা এবং নানান আলংকারিক উপাদান ও বুদ্ধের চিত্র দ্বারা সুন্দরভাবে অলংকৃত।
অষ্টসহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা তালপাতার পুঁথির অভ্যন্তরে বুদ্ধের একটি চিত্র (ভিআরএম৬৮৯)
অষ্টসহস্রিকা প্রজ্ঞাপারমিতা তালপাতার পুঁথির অভ্যন্তরে বুদ্ধের একটি চিত্র (ভিআরএম৬৮৯)
পুঁথিগুলো কেবল গ্রন্থই ছিল না, বরং পবিত্র ও আধ্যাত্মিক শক্তিতে পরিব্যাপ্ত হয়ে নিজেই পূজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তাদের পবিত্রতার একটি অংশ হলো সেইসব বিদ্বান এবং ধার্মিক ব্যক্তিদের সাথে তাদের সংযোগ, যাঁরা এই পুঁথিসমূহ ধারণ করেছেন এবং তাঁদের শিক্ষা অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছেন।
চিত্রিত তালপাতার পুঁথি পালযুগের সাংস্কৃতিক অভিব্যাক্তির একটি উপাদান। ধারণা করা হয় যে, বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় উৎপাদিত হয়েছিল এসকল পুঁথিগুলো। এই পুঁথিগুলো শিক্ষকদের মাধ্যমে বাংলা অববাহিকা, পূর্ব ভারত এবং হিমালয় জুড়ে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল, যা মহাযান বৌদ্ধধর্মের শিক্ষাকে বিস্তার করেছিল।
