প্রত্নবস্তু ১১: অসমাপ্ত ভাস্কর্য

বিষ্ণুর অসমাপ্ত প্রস্তর ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০০)

বিষ্ণুর অসমাপ্ত প্রস্তর ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০০)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম৯৩০০

মাপ: ১৩৭.০ X ৬৬.০ সেমি

উপাদান: ফাইলাইট

সংগ্রহের স্থান: রাজশাহী, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: আনুমানিক দ্বাদশ শতক

পাল ও সেন যুগ আগ্নেয়শিলা এবং ফাইলাইটে খোদাই করা চমৎকার বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রস্তর ভাস্কর্যের জন্য পরিচিত। তবে, বাংলা অববাহিকায় সহজলভ্য পাথরের ভাণ্ডার না থাকায় এই উপকরণগুলো হিমালয় এবং দাক্ষিণাত্যের মতো পার্শ্ববতী অঞ্চলগুলো থেকে এই অঞ্চলে পরিবহন করে আনার প্রয়োজন হতো।

ফলস্বরূপ, ভারী পাথরের খণ্ডগুলো দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন করা হতো। সম্ভবত এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ নদীগুলোর মাধ্যমে নৌকাযোগে পরিবাহিত হতো এসব ভারী পাথর। এই অমসৃণ খণ্ডগুলোকে পরবর্তীতে আকার দেওয়া হতো এবং মন্দির ও উপাসনালয় সজ্জিত করার জন্য খোদাই করে ভাস্কর্যে রূপায়িত করা হতো।

খণ্ডগুলোকে প্রথমে মোটামুটিভাবে ছেঁটে আকার দেওয়া হতো। এই প্রত্নবস্তুটির গায়ে খোদাই করা রেখাগুলো নির্দেশ করে যে, খণ্ডটিকে বিষ্ণুর আদলে রূপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এটি অসমাপ্ত এবং অমসৃণ, তবুও এর চারটি হাতের অবয়ব ইতোমধ্যেই দেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে এই দেবতার সাথে সম্পর্কিত উপাদান যেমন শঙ্খ, চক্র, পদ্ম এবং গদা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই ভাস্কর্যের নকশা ও নির্মাণ ‘শিল্পশাস্ত্র’-এর মতো গ্রন্থগুলোতে প্রাপ্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পবিত্র প্রতিমা নির্মাণের জন্য আদর্শ গুণাবলী ও নকশার নির্দেশক হিসেবে সমাদৃত ছিল।

বিষ্ণুর অসমাপ্ত প্রস্তর ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০০)

বিষ্ণুর অসমাপ্ত প্রস্তর ভাস্কর্য (ভিআরএম৯৩০০)

রাজশাহীতে প্রাপ্ত একাদশ শতকে পরিপূর্ণভাবে নির্মিত বিষ্ণু ভাস্কর্যের উদাহরণ (ভিআরএম২৫৭)

রাজশাহীতে প্রাপ্ত একাদশ শতকে পরিপূর্ণভাবে নির্মিত বিষ্ণু ভাস্কর্যের উদাহরণ (ভিআরএম২৫৭)

যদিও জাদুঘরের সংগ্রহে অনেক সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা ও পূর্ণাঙ্গ মূর্তি রয়েছে। তবুও এই অসমাপ্ত ভাস্কর্যটি নকশা এবং নির্মাণশৈলীর বিচারে একটি বিরল প্রত্ননিদর্শন হিসেবে পরিগণিত হয়। ভাস্কররা পাথরের মধ্যে কোনো দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছিলেন? নাকি তাদের পৃষ্ঠপোষক পরিবর্তিত হয়েছিল বিধায় এর কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়, সে বিষয়টি একটি রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।