প্রত্নবস্তু ১২: বিষ্ণুর ভাস্কর্য
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২৫৭
মাপ: ১২০.০ X ৬১.০ সেমি
উপাদান: সেরিসিটাইজড স্লেট
সংগ্রহের স্থান: রাজশাহী, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: একাদশ-দ্বাদশ শতক
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে পূর্ণাঙ্গ ও খণ্ডাংশরূপে শত শত মূর্তি রক্ষিত আছে। পণ্ডিতেরা যেভাবে বিবিধ প্রতীক ও দেবদেবীদের স্বাতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের পরিচয় সনাক্ত করেন, সেভাবেই দেবদেবীর এসব খণ্ডিত মুর্তিগুলোকে সনাক্ত করা হয়। বীণা হাতে সরস্বতী এবং চামর হাতে লক্ষ্মী দ্বারা পরিবেষ্টিত, এই বৃহৎ কেন্দ্রীয় চতুর্ভুজ আকৃতির মূর্তিটি অলঙ্কারে সজ্জিত এবং শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম ধারণ করে আছেন। কেন্দ্রে ডানাযুক্ত গরুড়সহ একটি পদ্ম-পাদপীঠের উপর দণ্ডায়মান, বনমালাসহ এই ভাস্কর্যটির স্বাতন্ত্র্য একে বিষ্ণুর ত্রিবিক্রম রূপ হিসেবে চিহ্নিত করে।
বিষ্ণুর ভাস্কর্য (ভিআরএম২৫৭)
বিষ্ণুর ভাস্কর্য (ভিআরএম২৫৭)
বিবিধ প্রতীকি উপস্থাপনা সম্বলিত বিষ্ণুর ভাস্কর্য (ভিআরএম২৫৭)
বিবিধ প্রতীকি উপস্থাপনা সম্বলিত বিষ্ণুর ভাস্কর্য (ভিআরএম২৫৭)
বিষ্ণুর ভাস্কর্যের এই চমৎকার উদাহরণটি সেন রাজবংশের (১০৭০-১২৩০ সাল) শাসনামলে খোদাই করা হয়েছিল এবং এটি আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রচারণা এবং ক্ষমতার মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে সাহায্য করে। মূলত দক্ষিণ ভারতের অধিবাসী সেন বংশের অধিকারীরা পাল সাম্রাজ্যের সামন্ত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা বাংলা অববাহিকার সার্বভৌমত্ব অর্জনে সক্ষম হন। সম্ভবত এটিই ইতিহাসে প্রথমবার যখন বৃহত্তর বঙ্গ অঞ্চল একজন একক স্বাধীন শাসকের অধীনে এসে লক্ষ্মণাবতী-গৌড় রাজধানী থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই সময়কালে সেনদের দ্বারা ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্মের প্রচার হয়েছিল। সেসময় অনেক মন্দির নির্মিত ও বিভিন্ন দেবদেবীর ভাস্কর্য দ্বারা সজ্জিত হয়। লক্ষ্মণ সেনের (শাসনকাল ১১৭৮-১২০৬ সাল) শাসনামলে সেনদের ক্ষমতা সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে। তাঁর শাসনামলে তিনি বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। এই ঐতিহ্যের মধ্যে, বিষ্ণুকে অন্য সকল দেবতার ঊর্ধ্বে পরম সত্তা হিসেবে দেখা হতো, যা সম্ভবত লক্ষ্মণ সেনের নিজস্ব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ছিল বলে ধারণা করা হয়।
