প্রত্নবস্তু ১৩: ব্রহ্মার ভাস্কর্য

ব্রহ্মার ভাস্কর্য (ভিআরএম২৯৩৯)

ব্রহ্মার ভাস্কর্য (ভিআরএম২৯৩৯)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২৯৩৯

মাপ: ৮৮.৯ X ৪৩.২ সেমি

উপাদান: কালো আগ্নেয়শিলা

সংগ্রহের স্থান: গোদাগাড়ী, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: আনুমানিক দ্বাদশ শতক

প্রধান দেবতাত্রয়, অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব-এর মধ্যে ব্রহ্মাকে এই মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং এর সকল প্রাণীর স্রষ্টা হিসেবে গণ্য করা হয়। ব্রহ্মার মস্তকগুলো এই মহাবিশ্বে তাঁর স্বরূপ, চারটি মূল দিক এবং দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক বর্ণপ্রথা অনুযায়ী সমাজের চতুর্মাত্রিক বিভাজনের প্রতীক।

প্রতিটি মুখমণ্ডল সূচালো দাড়ি এবং ঊর্ধমুখী বিন্যস্ত জটাসহ চিত্রিত হয়। অলংকার পরিহিত এবং বাম কাঁধ ও বুকের উপর পৈতা ধারণকারী ব্রহ্মাকে চার হাতবিশিষ্ট রূপেও চিত্রিত করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত এই ভাস্কর্যটির ক্ষেত্রে তা ভেঙে গেলেও, অক্ষত অবস্থায় এই দেবতার হাতে একটি জপমালা, হাতা, যজ্ঞের চামচ এবং একটি কমণ্ডলু ছিল বলে ধারণা করা যায়।

পদ্মাসনের উপর ললিতাসনে বা রাজকীয় ভঙ্গিতে উপবিষ্ট ব্রহ্মার একটি পা ভাঁজ করা এবং অন্যটি নিচের দিকে প্রসারিত। তার নিচে ব্রহ্মার বাহন রাজহাঁস সুস্পষ্টভাবে উৎকীর্ণ রয়েছে। পবিত্রতা ও প্রজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত এই হাঁস দুধ ও জলের মিশ্রণ থেকে দুধকে আলাদা করতে পারতো; যা তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য নিরূপণ করতে এবং সৃষ্টির সময় ব্রহ্মাকে পথ প্রদর্শন করতো।

অতীতে ব্রহ্মার ভাস্কর্য বা চিত্রায়ন বিরল ছিল, তবে দ্বাদশ শতকে আগত সেনবংশীয় রাজারা ব্রহ্মার উপাসনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। যা তাদের নবঅধিকৃত ভূমির উপর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং ব্রহ্মার মহাজাগতিক আদেশের প্রতি স্পষ্ট আনুগত্যের মাধ্যমে বর্ণপ্রথার কঠোর বাস্তবায়নকে বৈধতা দিতে সক্ষম করেছিল বলেও ধারণা করা হয়।