প্রত্নবস্তু ১৭: মিহরাব
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২৯৯এ, ২৯৯বি, ৩০০, ৩০১(এ-জি), ৩১১
মাপ: ভিআরএম২৯৯এ (২৬.০Î২৪.৭ X ১৬.৭ সেমি); ভিআরএম২৯৯বি (২৬.০ X ২৪.৭ X ১৬.৭ সেমি); ভিআরএম৩০১এ (উচ্চতা ১৩৩.০ সেমি; ব্যাস ২০৮.০ সেমি); ভিআরএম৩১১ (১২৮.১ X ৪১.২ X ১২.২ সেমি)
উপাদান: ভিআরএম২৯৯এ, ভিআরএম২৯৯বি এবং ভিআরএম৩০১এ - কালো আগ্নেয়শিলা; ভিআরএম৩১১ - ধূসর বেলেপাথর
সংগ্রহের স্থান: মাহিসন্তোষ, দিনাজপুর জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতক
অষ্টম সা. অব্দ থেকে সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের মাধ্যমে বাংলা অববাহিকায় ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে। মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, ইসলাম অনুসারী শাসকদের দ্বারা এই অঞ্চলটি রূপান্তরিত হতে থাকে; যার মধ্যে চতুর্দশ শতকের স্বাধীন বাংলা সালতানাত অন্যতম।
এর ফলে এই অঞ্চলে ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে (নিদর্শন ১৮-তে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে)। যদিও অনেক মসজিদ সম্পূর্ণ নতুন ভবন হিসেবে নির্মিত হয়েছিল, কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর পুনঃব্যবহার বা শোভাবর্ধক উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছিল। এই মিহরাবটি সেই ধর্মীয় রূপান্তর প্রক্রিয়ারই একটি বাস্তব নিদর্শন।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে পুনর্নির্মিত মিহরাবের দৃশ্য (ভিআরএম২৯৯এ, ২৯৯বি, ৩০০, ৩০১ (এ-জি), ৩১১)
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে পুনর্নির্মিত মিহরাবের দৃশ্য (ভিআরএম২৯৯এ, ২৯৯বি, ৩০০, ৩০১ (এ-জি), ৩১১)
Tইসলামের পবিত্র শিল্পকর্মে প্রাণী বা মানুষের অবয়ব চিত্রায়ন নিষিদ্ধ। এর ফলে ইসলামি স্থাপত্যে জ্যামিতিক অলঙ্করণ নিয়ে নানাবিধ নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। যদিও এই মিহরাবের পাথরগুলোর সম্মুখভাগে জ্যামিতিক নকশা, পদ্মফুল এবং পদ্মকলির নকশা নতুন করে খোদাই করা হয়েছে। তবুও পেছনের দিকের কিছু ব্লকে এখনও শনাক্তযোগ্য মানব অবয়ব বা শারীরিক গঠন বিদ্যমান। মূলত হিন্দু মন্দির থেকে সংগৃহীত এই পাথরগুলোর পুনঃব্যবহারের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। পূর্ববর্তী উপাসনালয়গুলো পুনঃব্যবহারের দীর্ঘ ইতিহাস অনেক ধর্মেরই রয়েছে এবং বাংলা অববাহিকায় যেখানে পাথরের দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে (নিদর্শন ১১-তে আলোচিত), সেখানে বিদ্যমান স্থাপনাগুলো নির্মাণ উপকরণের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। এছাড়া, নির্দিষ্ট স্থান এবং অবস্থানগুলো সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ থেকে যেতে পারে এবং উপকরণের এই পুনঃব্যবহার ধর্মীয় রূপান্তরের সময় পবিত্রতার একটি ধারাবাহিকতাও তৈরি করতে পারে। এর প্রতিফলন পদ্মের মতো মোটিফ বা নকশাগুলোর অব্যাহত গুরুত্বের মধ্যেও দেখা যায়। যা সমগ্র দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন সম্প্রদায়ের মধ্যে সাধারণ বা সার্বজনীন।
মিহরাবের ভেতরের পুষ্পশোভিত ও জ্যামিতিক নকশার বিস্তারিত রূপ
মিহরাবের ভেতরের পুষ্পশোভিত ও জ্যামিতিক নকশার বিস্তারিত রূপ
মিহরাব গঠনকারী পাথরের ব্লকগুলোর পেছনের অংশে পূর্ববর্তী কোনো স্থাপনার জন্য খোদাই করা অবয়বের চিত্র
মিহরাব গঠনকারী পাথরের ব্লকগুলোর পেছনের অংশে পূর্ববর্তী কোনো স্থাপনার জন্য খোদাই করা অবয়বের চিত্র
মিহরাব গঠনকারী পাথরের ব্লকগুলোর পেছনের অংশে পূর্ববর্তী কোনো স্থাপনার জন্য খোদাই করা অবয়বের চিত্র
মিহরাব গঠনকারী পাথরের ব্লকগুলোর পেছনের অংশে পূর্ববর্তী কোনো স্থাপনার জন্য খোদাই করা অবয়বের চিত্র
