প্রত্নবস্তু ২৩: নববধূর পোশাক

জেবুন্নেসার লাল পোশাক (ভিআরএম১১৩২০)

জেবুন্নেসার লাল পোশাক (ভিআরএম১১৩২০)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম১১৩২০

মাপ: ৬০.০ সেমি দৈর্ঘ্য, কোমর ৩১ সেমি

উপাদান: মখমল, রূপা ও সোনার সূচিকার্য সহ

সংগ্রহের স্থান: বাঘা, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: বিংশ শতক

এই লাল মখমলের পোশাকটিতে রূপা ও সোনার সুতোয় ফুলের নকশার জমকালো সূচিকার্য করা হয়েছে। এই জটিল নকশাগুলোর অনেকগুলোই ছোট আয়নার ব্যবহারে আরও আকর্ষণীয় হয়েছে, যা এর দৃশ্যমান জাঁকজমক বাড়িয়েছে এবং আলো পড়লে পোশাকটিকে ঝলমল করে তোলে। এই চমৎকার পোশাকটি জীবনের একটি যুগান্তকারী ঘটনা - বিবাহের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায়, লাল রঙ উর্বরতা, সম্পদ এবং বৈবাহিক সুখের প্রতীক এবং প্রায়শই এটি বিয়ের পোশাকের রঙ হিসাবে নির্বাচিত হয়। এই বিশেষ বিবাহের পোশাকটি প্রয়াত বেগম জেবুন্নেসার ছিল।

জেবুন্নেসার লাল পোশাক (ভিআরএম১১৩২০)

জেবুন্নেসার লাল পোশাক (ভিআরএম১১৩২০)

ছোট আয়না এবং রূপা ও সোনার সুতোয় তৈরি ফুলের নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩২০)

ছোট আয়না এবং রূপা ও সোনার সুতোয় তৈরি ফুলের নকশার বিস্তারিত অংশ (ভিআরএম১১৩২০)

জেবুন্নেসা ছিলেন রংপুরের মহীপুর আলম এস্টেটের একজন জমিদারের পুত্রবধূ। অষ্টাদশ শতক থেকে জমিদাররা ছিলেন এই অঞ্চলের স্থানীয় সামন্ত শাসক, এবং তাঁরা ধনী হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীও ছিলেন। দামি উপকরণ দিয়ে তৈরি, এই পোশাকটি জমিদার পরিবারের সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রভাবের একটি দৃশ্যমান এবং বাস্তব প্রতিনিধিত্ব।

তবে, পোশাকটি খুব ছোট, যা থেকে বোঝা যায় এটি একটি শিশুর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বিংশ শতকের প্রথম দিকে, বাল্যবধূ একটি সাংস্কৃতিক প্রথা ছিল এবং বিবাহের আয়োজনও ছিল জমিদারের জমি ও পরিবারের উপর কর্তৃত্বের একটি বর্ধিত অংশ। এই প্রথাকে বেআইনি করার পথ শুরু হয়েছিল ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মাধ্যমে, যা মেয়েদের বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ নির্ধারণ করে।