প্রত্নবস্তু ২৪: ছাঁচ
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম৬৩২৭
মাপ: ৩১.১ সেমি ব্যাস
উপাদান: পাথর
সংগ্রহের স্থান: নাটোর, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: উনবিংশ শতক
এই পাথরের বস্তুটির এক পাশে জ্যামিতিক নকশাযুক্ত পুনরাবৃত্তিমূলক বৃত্তাকার মোটিফ অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে খোদাই করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই ধরনের নকশা ‘নকশি’ নামে পরিচিত। যদিও এটি দেখতে সুন্দর, তবুও এটি চূড়ান্ত কোনো পণ্য নয়; বরং এটি অন্য উপাদানের সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
পাথরের ছাঁচ (ভিআরএম৬৩২৭)
পাথরের ছাঁচ (ভিআরএম৬৩২৭)
এই বস্তুটির একটি সম্ভাব্য ব্যবহার ছিল চালের পিঠার নকশা করার ছাঁচ হিসেবে। চালের গুঁড়া এবং চিনি, মসলা ও ফলের মতো অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণ দিয়ে কাই বা ময়ান তৈরি করে এই পাথরের ওপর চাপ দেওয়া হতো, যার ফলে সুন্দর আকৃতি ও নকশা করা পিঠা তৈরি হতো। নবান্ন উৎসব (ফসল কাটার মৌসুম শেষে) এবং নববর্ষসহ বিভিন্ন উদযাপনের সময় এই পিঠাগুলো সাধারণত পরিবেশন করা হয়।
এর আরেকটি ব্যবহার হতে পারে কাপড়ে নকশা ছাপানো। রেশম বা সিল্ক রাজশাহীর অন্যতম প্রধান শিল্প এবং এখানকার অনেক কারখানায় রেশম পোকা পালন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পোশাক তৈরি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয়। তুঁত গাছ খেয়ে বেড়ে ওঠা রেশম পোকা গুটি বা কোকুন তৈরি করে। গুটি থেকে মিহি রেশম সুতা কাটা হয়। সুতা থেকে কাপড় বোনার পর সেই রেশমি কাপড় রঙ করা হয় এবং পোশাকে রূপান্তর করা হয়। রঙ করার সময় ব্যবহৃত একটি কৌশল হলো গরম মোম দিয়ে কাপড়ের উপর নকশা আঁকা, যা ওই নির্দিষ্ট অংশে রঙ প্রবেশে বাধা দেয়। আরেকটি পদ্ধতি হলো ছাঁচের ভেতর রঙ রেখে তার ওপর কাপড় চেপে ধরে নকশা ফুটিয়ে তোলা।
রেশম গুটি বা কোকুন থেকে সুতা তৈরি করা হচ্ছে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
রেশম গুটি বা কোকুন থেকে সুতা তৈরি করা হচ্ছে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
মোম ব্যবহার করে রেশমি কাপড়ে নকশা করা হচ্ছে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
মোম ব্যবহার করে রেশমি কাপড়ে নকশা করা হচ্ছে (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
এই ছাঁচটির তৃতীয় সম্ভাব্য ব্যবহার হতে পারে তার বাঁকিয়ে আলঙ্কারিক নকশা তৈরির টেমপ্লেট বা কাঠামো হিসেবে, যা পরবর্তীতে পোশাকে সেলাই করা যেত (যেমনটি নিদর্শন ২৩-এ দেখা যায়)। উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এই বস্তুটি বাংলাদেশের সৃজনশীল ঐতিহ্য এবং বিমূর্ত ঐতিহ্যের একটি স্মারক ও নিদর্শন।
