প্রত্নবস্তু : তাম্রশাসন

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২৯১১

মাপ: ২৩.৬ X ১২ সেমি

উপাদান: তামা

সংগ্রহের স্থান: জগদীশপুর, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: ৪৪৭ সা. অব্দ

কুষাণ শাসন দুর্বল হয়ে পড়লে, গঙ্গা অববাহিকা মহারাজা ও রাজা উপাধিধারী শাসকদের অধীনে ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত (শাসনকাল ৩১৯-৩৩৫ সা. অব্দ) এবং তাঁর পুত্র সমুদ্রগুপ্ত (শাসনকাল ৩৩৫-৩৭৫ সা. অব্দ), যাঁরা একাধিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কুষাণদের মতো তাঁরাও অনেক ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন। তাঁদের শাসনকালকে প্রায়শই একটি ‘সুবর্ণ যুগ’ হিসেবে দেখা হয়, যখন অলঙ্কৃত ভাস্কর্যসহ মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সংস্কৃত ভাষায় নাটক, কবিতা ও ধর্মীয় গ্রন্থের এক বিশাল ভাণ্ডার রচিত হয়েছিল।

সংস্কৃত কেবল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাজেই ব্যবহৃত হতো না, গুপ্ত রাষ্ট্রের প্রশাসনেও এর ব্যবহার ছিল। তাম্রশাসন ছিল এক ধরনের আইনি দলিল যাতে ভূমি অনুদান, এর আকার ও সীমানার পাশাপাশি এর উপর কার এখতিয়ার থাকবে তা লিপিবদ্ধ থাকতো। দীর্ঘস্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার জন্য এই মালিকানা দলিলগুলো ধাতু দিয়ে তৈরি করা হতো এবং এগুলো অধ্যয়নের মাধ্যমে, আমরা পূর্ববর্তী কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে একটি সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের ধারাটি খুঁজে পাই।

একটি ছিদ্র দিয়ে উভয়-পার্শ্বে-উৎকীর্ণ পাতটি, এবং সম্ভবত অন্যান্য নথিও, একটি আংটার মাধ্যমে একত্রে বেঁধে রাখা হতো। এই অংশটির উপরে একটি রাজকীয় সীলমোহর সংযুক্ত থাকতো, যা এর বৈধতা নিশ্চিত করতো। ভূমি অনুদান গুপ্তদের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতে সাহায্য করতো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়শই সম্প্রদায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতো এবং আশেপাশের এলাকাগুলোকে আরও বাসযোগ্য ও লাভজনক পরিবেশে রূপান্তরিত করতে পারতো। এই নবপ্রতিষ্ঠিত এলাকাগুলো এর গভর্নর, প্রশাসক এবং ভূস্বামীদের মাধ্যমে রাজদরবারের ঘনিষ্ঠতর হতো, যাঁরা ধর্মীয়, সামরিক ও প্রশাসনিক সেবার মাধ্যমে রাজশক্তিকে সমর্থন করতেন।

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)

জগদীশপুর তাম্রশাসনটি গুপ্তাব্দ ১২৮ (৪৪৭ সা. অব্দ) সনে জারি করা হয়েছিল এবং সেকারণে এটি প্রথম কুমারগুপ্তের (শাসনকাল ৪১৫-৪৫৫ সা. অব্দ) রাজত্বের শেষের দিকের। এতে লিপিবদ্ধ আছে যে, বৌদ্ধ বিহার এবং সূর্য দেবতার মন্দিরসহ স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর থেকে অব্যাহতি দিয়ে অনাবাদি জমি অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এই অনুদানের মধ্যে মন্দিরের উপাসনালয়ের জন্য মন্দিরের কাছে একটি ফুলের বাগান তৈরির ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে আরও বলা হয়েছে যে, যারা এই জমি চুরি করবে তারা সর্পকূলে জলবঞ্চিত হয়ে পুনর্জন্ম লাভ করবে। যারা একে চ্যালেঞ্জ করবে তারা নরকে বাস করবে। কিন্তু যারা এই উপহার প্রদান করবে তারা স্বর্গে বাস করবে।

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)

জগদীশপুর তাম্রশাসন (ভিআরএম২৯১১)