প্রত্নবস্তু ৬: দণ্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২১৭
মাপ: ১০৬ X ৪৯ সেমি
উপাদান: বেলেপাথর
সংগ্রহের স্থান: বিহারইল, তানোর, রাজশাহী জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: পঞ্চম শতক
বুদ্ধের প্রাথমিক উপস্থাপনাগুলোতে তাঁকে মানব আকারে চিত্রিত করা হয়নি। বরং, তাঁর পদচিহ্ন, একটি শূন্য সিংহাসন, তাঁর বোধিলাভকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি বৃক্ষ বা তাঁর শিক্ষাকে প্রতিফলিত করে এমন একটি চক্র সহ বিভিন্ন প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো। পরবর্তীকালে বুদ্ধের জীবন্ত উপস্থাপনাগুলো একটি শক্তিশালী শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ এবং এশিয়া জুড়ে বৌদ্ধধর্মের প্রসারের সাথে সাথে নতুন সম্প্রদায়গুলোকে এর ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করার একটি পদ্ধতি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।
এই প্রাথমিক মানব চিত্রায়ণে, বুদ্ধকে শান্ত এবং ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর চুল একটি শীর্ষ-খোঁপা বা উষ্ণীষ আকারে আঁকা, যা প্রজ্ঞার নির্দেশক, এবং তাঁর বিলম্বিত কানের লতিগুলো সেই গহনাগুলোর পূর্বের ওজনের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা বুদ্ধ তাঁর রাজকীয় জীবন ত্যাগ করার সময় বর্জন করেছিলেন।
ষষ্ঠ শতকে গুপ্ত যুগে পুনর্নির্মিত সারনাথের ধামেক স্তূপ (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
ষষ্ঠ শতকে গুপ্ত যুগে পুনর্নির্মিত সারনাথের ধামেক স্তূপ (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
গুপ্ত শাসকেরা বৌদ্ধধর্ম সহ একাধিক ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিলেন এবং ভারতের সারনাথের মতো তীর্থস্থানগুলোর বিকাশে সহায়তা করেছিলেন, যেখানে বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন। সারনাথ ছিল শিল্পকর্মের একটি বিখ্যাত কেন্দ্র, এবং সেখানে নির্মিত ভাস্কর্যগুলো ছিল নিম্নগামী চোখ ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম পোশাকসহ ভাবপ্রকাশে শান্ত এবং অন্তর্মুখী। এই ভাস্কর্যগুলো প্রধানত একটি হালকা পিতবর্ণের বেলেপাথরে খোদাই করা হয়েছিল।
সারনাথ থেকে প্রাপ্ত দণ্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতায় প্রদর্শিত। সৌজন্যে: ডারহাম ইউনিভার্সিটির স্যার জন মার্শাল আলোকচিত্র সংগ্রহ (ডিইউআরওএম.১৯৫৭.১.২৮১৫)
সারনাথ থেকে প্রাপ্ত দণ্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতায় প্রদর্শিত। সৌজন্যে: ডারহাম ইউনিভার্সিটির স্যার জন মার্শাল আলোকচিত্র সংগ্রহ (ডিইউআরওএম.১৯৫৭.১.২৮১৫)
এই দণ্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তিটির সাথে সারনাথে খোদাই করা অন্যান্য মূর্তির অনেক মিল রয়েছে এবং সম্ভবত গুপ্ত পৃষ্ঠপোষকতায় এটি রাজশাহীতে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে স্থাপনের জন্য আনা হয়েছিল। এটি দেখায় যে, কীভাবে তাদের সাম্রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন অঞ্চল ধর্মবিশ্বাস, সেইসাথে বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সংযোগের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছিল।
