প্রত্নবস্তু :

মৃন্ময় বিষ্ণুমূর্তি

মৃন্ময় বিষ্ণুমূর্তি (ভিআরএম১০১৩৬)

মৃন্ময় বিষ্ণুমূর্তি (ভিআরএম১০১৩৬)

প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম১০১৩৬

মাপ: ৫৩.৫ X ২৮.০ সেমি

উপাদান: কাদামাটি

সংগ্রহের স্থান: রানীনগর, নওগাঁ জেলা, বাংলাদেশ

সময়কাল: পঞ্চম-ষষ্ঠ শতক

অত্যন্ত বিরল অসাধারণ শিল্পশৈলীর প্রতিফলন মেলে এই বিষ্ণু মূর্তিটি নির্মাণে ছাপ রাখা অসামান্য দক্ষতা ও কারুকার্যে। সম্ভবত এটি ‘লস্ট-ওয়াক্স কাস্টিং’ বা মোম-ছাঁচ ঢালাই কৌশলের মাধ্যমে ধাতব ভাস্কর্য নির্মাণের প্রক্রিয়াতে তৈরি করা হয়েছিল এই মূর্তি। এই প্রক্রিয়ায় মূল ভাস্কর্যটি কাদামাটি দিয়ে তৈরি করা হয় - যা হলো মূল মূর্তিটির অবকাঠামো। তারপর এর উপর কাদামাটি চেপে একটি গৌণ ছাঁচ তৈরি করা হয়। এবার মূল শিল্পকর্মটি সরিয়ে ফেলে ছাঁচটির ভেতর খালি করে ফেলা হয়। সরিয়ে ফেলা এই মূল মূর্তিটি এর অবস্থাভেদে পুনরায় ব্যবহারও করা যেতে পারে, আবার বাতিল বলেও গন্য হতে পারে। শূন্য ছাঁচটির ভেতরের পৃষ্ঠে মোমের প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর ভেতরের শূন্যস্থানটি মূল উপকরণ হিসেবে কাদামাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এই যৌগিক ছাঁচটিকে উত্তপ্ত করা হলে মোম গলে বেরিয়ে গিয়ে একটি শূন্যস্থান তৈরি করে, যার মধ্যে গলিত ধাতু, সাধারণত ব্রোঞ্জ, ঢেলে চূড়ান্ত ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়।

মূল এই মূর্তিটিকে মাস্টারপিস হিসেবে গন্য করার কারণ হলো এটি রোদে-শুকানো কাদামাটি দিয়ে তৈরি এবং এটিকে আগুনে পুড়িয়ে পোড়ামাটির মূর্তি বানানো হয়নি। ধাতব মূর্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ার এমন অনেক ধাপের মধ্যে দিয়ে এই মাস্টারপিসকে যেতে হয় যে, এটির টিকে থাকা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। ফলশ্রুতিতে তা প্রত্নতত্ত্বে হারিয়ে যায়।

কাদামাটি দিয়ে মাস্টারপিস মূর্তি তৈরি করা একাধারে একটি শিল্পকলা এবং একটি আচারগত প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে এখনও এই পদ্ধতি প্রচলিত। দুর্গাপূজার সময়, খড় দিয়ে প্যাঁচানো বাঁশের কাঠামোর উপর ভিত্তি করে দেবদেবীর মৃন্ময় প্রতিমা নির্মাণ করা হয়। এই মূর্তিগুলোকে এরপর হাতে রং করা হয়, পোশাক পরানো হয় এবং পূজা করা হয়। উৎসবের শেষে, মাটির তৈরি প্রতিমাগুলোকে ধর্মীয় আচারে জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। এতে মূর্তিগুলো তাদের তৈরির উপকরণ হিসেবে প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যায়।

বাংলাদেশে দুর্গোৎসবের অংশ হিসেবে মৃন্ময় ভাস্কর্য নির্মাণ

বাংলাদেশে দুর্গোৎসবের অংশ হিসেবে মৃন্ময় ভাস্কর্য নির্মাণ