প্রত্নবস্তু ৮: পোড়ামাটির ফলক
প্রত্নবস্তু নম্বর: ভিআরএম২০৬৩
মাপ: ৩৫.০ X ৩০.০ সেমি
উপাদান: পোড়ামাটি
সংগ্রহের স্থান: পাহাড়পুর, নওগাঁ জেলা, বাংলাদেশ
সময়কাল: অষ্টম-নবম শতক
পাহাড়পুর দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাচীন বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণের নিদর্শন বহন করে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত। এটি পাল সম্রাট ধর্মপাল (শাসনকাল ৭৭০-৮১০ সা. অব্দ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যাঁর ক্ষমতা গঙ্গা উপত্যকা এবং আধুনিক বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সহায়তায় ১৯২৩ থেকে ১৯৩৪ সালের মধ্যে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত খননকাজসহ বহু প্রত্নতত্ত্ববিদ এই স্থানটিতে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। পাহাড়পুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরবর্তী সময়কালে নির্মীত অনেক বৌদ্ধ ও হিন্দু স্থাপনাকে প্রভাবিত করেছিল।
পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
পাহাড়পুরের প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য (ডারহাম ইউনেস্কো চেয়ার)
১৭৭টি কক্ষ বিশিষ্ট এই বিহার প্রাঙ্গণটি একটি বিশাল ক্রুশাকার মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, এবং এটি পারিপার্শ্বিক ভূদৃশ্য থেকে ২২ মিটার উঁচুতে উঠে গেছে - যা এর স্থানীয় নাম পাহাড়পুর-কে (অর্থ পাহাড়ের বসতি) অর্থবহ করে তোলে। মন্দিরটির নিম্নভাগের সোপান-প্রাচীরগুলো ২,০০০-এরও বেশি পোড়ামাটির ফলক দ্বারা অলঙ্কৃত ছিল, যেগুলোতে মানুষ, প্রাণী, পাখি ও মাছের পাশাপাশি দেবদেবী এবং ধর্মীয় প্রতীক চিত্রিত হয়েছে। এগুলো সম্ভবত তীর্থযাত্রী ও ভক্তদের বৌদ্ধ ও হিন্দু বিশ্বতত্ত্বের সাথে দৈনন্দিন জীবনের সহাবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিত। এগুলো পাল যুগে বিশ্বাসের বহুত্বকেও প্রতিফলিত করে, পাশাপাশি এই রাজবংশ যে, একাধিক ঐতিহ্যকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিল তাও তুলে ধরে।
পাহাড়পুরের বিশাল কেন্দ্রীয় মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলকসমূহ। সৌজন্যে: ডারহাম ইউনিভার্সিটির স্যার জন মার্শাল আলোকচিত্র সংগ্রহ (ডিইউআরওএম.১৯৫৭.১.৩৮২০)
পাহাড়পুরের বিশাল কেন্দ্রীয় মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলকসমূহ। সৌজন্যে: ডারহাম ইউনিভার্সিটির স্যার জন মার্শাল আলোকচিত্র সংগ্রহ (ডিইউআরওএম.১৯৫৭.১.৩৮২০)
পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত এই পোড়ামাটির ফলকটিতে একটি মকর (পৌরাণিক জলচর দৈত্য)-কে চিত্রিত করা হয়েছে। বৌদ্ধ ও হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে প্রায়শই মকরকে হাতি, কুমির, বন্য শূকর এবং মাছসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপাদানের সমন্বয়ে গঠন করা হয়। জল ও স্থলের মধ্যে রূপান্তরকে প্রতিনিধিত্বকারী মকরকে প্রায়শই পবিত্র স্থানগুলোর প্রবেশদ্বার এবং পরিবর্তনশীল স্থানগুলোতে স্থাপন করা হতো।
মকরের চিত্র সম্বলিত পোড়ামাটির ফলক (ভিআরএম২০৬৩)
মকরের চিত্র সম্বলিত পোড়ামাটির ফলক (ভিআরএম২০৬৩)
